“হাসির রাজা দিলদারের মৃত্যুবার্ষিকী আজ”

 ওয়াসিম এমদাদঃ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অত্যন্ত গুণী ও চৌকশ একজন অভিনেতার নাম দিলদার। চলচ্চিত্রে দিলদারের প্রধান পরিচয় কৌতুক অভিনেতা। বেশিরভাগ চলচ্চিত্রপ্রেমী মানুষ তাঁকে কৌতুক সম্রাট হিসেবে জানেন। দৈনন্দিন ব্যস্ততার গ্লানি টানা শেষে ক্লান্ত শরীরে সাধারণ দর্শক যখন তার অভিনয় দেখতেন, তখন তারা মুগ্ধ হতেন, প্রাণ খুলে হাসতেন, ভুলে যেতেন সারাদিনের সব কষ্ট। কিংবদন্তি এ অভিনেতার মৃত্যুর পর দেশের চলচ্চিত্রে তীব্রভাবে দেখা দেয় কমেডিয়ান সংকট। আজো সে সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি আমাদের চলচ্চিত্র অঙ্গন। আজ ১৩ জুলাই কৌতুক অভিনেতা দিলদারের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৩ সালের এই দিনে ৫৮ বছর বয়সে তিনি জীবনের মায়া কাটিয়ে চিরদিনের মতো পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। দেখতে দেখতে কেটে গেল ১৪টি বছর। মুছে গেছেন তিনি সবখান থেকে। নতুন প্রজন্মের দর্শকও তাকে চেনেন না খুব একটা। তবে দিলদার থেকে গেছেন অসংখ্য চলচ্চিত্রে তার দুর্দান্ত অভিনয়ে; কৌতুক অভিনেতার কিংবদন্তি হয়ে। ১৯৪৫ সালের ১৩ জানুয়ারি চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন দিলদার। তিনি এসএসসি পাশ করার পর পড়াশোনার ইতি টানেন। অভিনেতা দিলদার চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন ১৯৭২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কেন এমন হয়’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করার মধ্য দিয়ে। ধীরে ধীরে অপ্রতিদ্বন্দ্বী কৌতুক অভিনেতার আসন দখল করে নেন তিনি। অভিনেতা দিলদারের জনপ্রিয়তা এতটাই তুঙ্গে ছিল যে, তাকে নায়ক করে নির্মাণ করা হয়েছিল ‘আব্দুল্লাহ’ নামে একটি চলচ্চিত্র। এ ছবিতে নূতনের বিপরীতে অভিনয় করে বাজিমাত করেছিলেন দিলদার। দিলদারের অনবদ্য অভিনয়ের কারণে এ ছবির গানগুলোও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো। তার অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ ‘বিক্ষোভ’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘কন্যাদান’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘সুন্দর আলী জীবন সংসার’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘শান্ত কেন মাস্তান’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তিনি ছিলেন সিনেমার দুঃখ ভুলানো মানুষ। ছবি দেখতে দেখতে কষ্ট-বেদনায় মন যখন আচ্ছন্ন হয়ে থাকতো তখনই তিনি হাজির হতেন হাসির সুবাস ছড়িয়ে। তার হাঁটা-চলা, বাচন ভঙ্গি, অভিনয়ের সাবলীলতার পরতে পরতে থাকতো আনন্দের ছড়াছড়ি। শুধু তাই নয়, তার অভিনীত চলচ্চিত্রের কাহিনীতে কিংবা নায়ক-নায়িকার অভিনয় দক্ষতায় ঘাটতি থাকলেও দর্শক সেটি দেখতে এতটুকু বিরক্ত হননি। এমনকি অনেক চলচ্চিত্রের শেষ দৃশ্যে তার সংলাপ দিয়েই কাহিনীর শেষ হওয়াটা স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছিল। আশি-নব্বই দশকের চলচ্চিত্রে তিনি আর কৌতুক হয়ে ওঠেছিলো সমার্থক। যদি ৫৮ বছর বয়সে এ পৃথিবী ছেড়ে তিনি চলে না যেতেন, তাহলে হয়তো আজও উপহার দিতেন নতুন কোনো হাস্যরসাত্মক চলচ্চিত্র। সেরা কৌতুক অভিনেতা হিসেবে ২০০৩ সালে ‘তুমি শুধু আমার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুবাদে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও লাভ করেন। জীবনভর অভিনয় করে যে বছর সেরার স্বীকৃতি পেলেন সে বছরই তিনি দেশ বিদেশে বাংলা ছবির কোটি কোটি দর্শককে শোক সাগরে ভাসিয়ে চলে গেলেন আর না ফেরার দেশে। তার মৃত্যুর পর আরও অনেক কৌতুক অভিনেতাই এসেছেন, আবার সময়ের স্রোতে হারিয়েও গেছেন। কিন্তু কেউই দিলদারের অভাব পূরণ করতে পারেননি। আজকের এই দিনে আমরা মিডিয়াভূবন ২৪ পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষণজন্মা এই কিংবদন্তি অভিনেতাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। চিরদিন তিনি দর্শকের হৃদয়ে বেঁচে থাকুক আপনকর্মে।

Check Also

জমকালো আয়োজনে ৩৬ বছর বরণ মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় এর !

অরণ্য শোয়েব | মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় অতি পরিচিত একটি নাম সাংস্কৃতিক অঙ্গনের | বছর কাটতে …