Home / বড় পর্দা / ভালো-মন্দের জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস পালন

ভালো-মন্দের জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস পালন

গতকাল ছিল জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস। চলচ্চিত্রকারদের প্রাণের উৎসবের দিন এটি। প্রতি বছর ৩ এপ্রিল এফডিসিতে দিনটি উদযাপন করা হয়। তবে প্রতিবারের মতো এবারও যে বিষয়টি কারও দৃষ্টি এড়ায়নি তা হলো চলচ্চিত্র দিবসে চলচ্চিত্রের লোকজনের উপস্থিতি অপ্রতুল। অভিনেতা আলমগীর বক্তব্য রাখতে গিয়ে ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আমাদের মধ্যে যদি আনন্দের এই দৈন্যতা থাকে তাহলে এই শিল্পের উন্নয়ন কীভাবে হবে। তিনি বলেন, আমি নাম ধরে বলতে চাই কোথায় মৌসুমী, ওমর সানি, শাবনূর, অমিত হাসানসহ চলচ্চিত্র শিল্পীরা। আপনাদের কি বাসা থেকে তোষামোদ করে নিয়ে আসতে হবে? কার্ড পাঠালে কি আপনারা মাইন্ড করেন? কিন্তু প্রয়াত নায়করাজ রাজ্জাক সাহেবকে তো কোনো দিন দাওয়াত দিয়ে এই উৎসবে আনতে হয়নি। তিনি নিজেই এসে জানতে চাইতেন কীভাবে পালন করা হবে দিনটি। আলমগীর বলেন, যতদিন পর্যন্ত এই দৈন্য মানসিকতার পরিবর্তন না হবে ততদিন এ শিল্প এই ভঙ্গুর দশায় রয়ে যাবে। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই শিল্পকে জাগিয়ে তুলি। সকাল সোয়া ১০টায় এফডিসিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পু®প্যমাল্য দিয়ে দিবসের সূচনা করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তার সঙ্গে ছিলেন তথ্য সচিব আবদুল মালেক, এফডিসির ভারপ্রাপ্ত এমডি লক্ষণ চন্দ্র দেবনাথ, জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসের আহ্বায়ক অভিনেতা সৈয়দ হাসান ইমাম, অভিনেতা আলমগীর, রোজিনা, দিলারা, ইলিয়াস কাঞ্চন, সম্রাট, মিশা সওদাগর, শাহনূর, জায়েদ খান, সায়মন, আইরিন প্রমুখ। এরপর ডাবিং থিয়েটারের সামনে স্থাপিত মঞ্চে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে তথ্যমন্ত্রী দিবসের উদ্বোধন করেন। জহির রায়হান কালার ল্যাবের সামনে স্থাপিত অন্য মঞ্চে বক্তব্য রাখেন অতিথিরা। এরপর তথ্যমন্ত্রীকে নিয়ে সাদামাটা মানের একটি র‌্যালি এফডিসি চত্বর প্রদক্ষিণ করে। ৯ নম্বর ফ্লোরের বারান্দায় ছিল সোনালি দিনের চলচ্চিত্রের স্থির ছবি প্রদর্শনী। বেশ কয়েকটি ঘোড়ার গাড়ি ও ব্যান্ড পার্টি আনা হলেও তারকাদের অনুপস্থিতিতে বর্ণহীন র‌্যালিটি দায়সারা গোছের আয়োজন সম্পন্ন করে। এ নিয়ে এফডিসিতে আসা বাইরের অতিথিরা তারকাদের দেখতে না পাওয়ায় ক্ষোভ ঝাড়েন। এবারের দিবসে এফডিসিতে বসেনি মেলা। এক কথায় বর্ণ আর রংহীন জাতীয় দিবস মন কাড়তে পারেনি কারও।

জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের কথায়ও ছিল তারকাদের অনুপস্থিতির ক্ষোভ। তিনি বলেন চলচ্চিত্রের বিকল্প টিভি, স্যাটেলাইট চ্যানেল, নেটফ্লিক্স, ইউটিউব হতে পারে না। চলচ্চিত্রের বিকল্প শুধুই চলচ্চিত্র। একসময় বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের স্বর্ণ যুগ ছিল। এখন কেন নেই তার অনেক উত্তর আছে। এক্ষেত্রে আমাদের সবার দায়বদ্ধতা রয়েছে। এদেশের মানুষ যাতে জীবনঘনিষ্ঠ আধুনিক চলচ্চিত্র দেখে বিনোদন পাওয়ার পাশাপাশি দেশ ও জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে ঐক্যবদ্ধভাবে সেই প্রচেষ্টা চালাতে হবে। মন্ত্রী বলেন, এফডিসিকে আধুনিক করতে ৩২২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে এটির কাজ সম্পন্ন হলে এই সংস্থাকে আর প্রণোদনা দিয়ে চালাতে হবে না। এফডিসি হবে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠান। মানসম্মত ছবির অভাবে সিনেমা হলের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। সিনেমা হল বন্ধে প্রদর্শকদের দাবি খতিয়ে দেখতে তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। চলচ্চিত্রের সব সংগঠনকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে চলচ্চিত্র শিল্পের সব সমস্যা দূর করা হবে। দর্শক যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে ছবি দেখতে পারে তাই আধুনিক নির্মাণ ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে। চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারি অনুদান সময়োপযোগী করা হবে। সিনেমা হল সংস্কার ও নির্মাণে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি কিস্তিতে ঋণ দেওয়া হবে। তথ্যমন্ত্রী চলচ্চিত্রকারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের চলচ্চিত্র যেন দেশ পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও আবার প্রশংসা পায় সেই চেষ্টা করতেই হবে।

Check Also

বিদায় জানানোর সময়ও নেই তাদের

মিডিয়া ভূবন২৪- না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা টেলি সামাদ। গত …