রাসু আপার ‘শেকড়’ এ আলোর মিছিল

 

অরণ্য শোয়েব | “শেকড়” একটি যশোরের অন্যতম একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন | ২০০০ সালে শেকড়ের জন্ম ।এই প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন রওশন আরা রাসু | বেশ পরিচিত মুখ ,যশোর শিল্পকলা একাডেমিতে রয়েছে তার অনেক সুনাম | প্রায় সকল ধরণের সামাজিক কাজ কর্মে আবদ্ধ থাকেন এই নারী | তার শেকড় সচেতনতা মূলক কাজ করে  যেমন ,মাদকের প্রতিকার, শিক্ষা প্রচার, নারী অধিকার, নির্যাতন,এসিড নিক্ষেপ, ইভটিজিং, প্রতিবন্ধী, ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরে, তাদের শিল্পের মধ্যে দিয়ে। সংগঠনটি “রত্নগর্ভা” পুরস্কার প্রদান করে থাকেন |

 

‘শেকড় ‘ সংগঠনটির বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুল আশরাফ বলেন , আমাদের রাসু আপা হলেন শেকড়ের সাধারণ সম্পাদক, ওনার সংগঠন ‘শেকড়’ । যেমন নাম তেমন তার কাজ, নামের সাথেই জড়িয়ে আছে তার অসাধারণ চিন্তা। যদি কোনো বৃক্ষকে রূপক কল্পনা করে, শেকড়ের বর্ণনা দেই, তবে রাসু আপা হলেন, মাতৃমূল। আর শাখা প্রশাখা হলো তার বাচ্চারা।

উনি উনার বাচ্চাদের ঠিক মায়ের মতো আগলে রাখেন। বাচ্চাদের আশ্রয় থেকে শুরু করে আর্থিক সব দিকে যেন তার সজাগ দৃষ্টি। শুধু তাই নয়, তিনি আসলে প্রকৃত শিল্পকর্মী।৩ দিনের ব্যাপী অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে আমার পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় একটি প্রযোজনা শিল্পায়িত করা হয় , নামটা, ‘আলোর মিছিল ‘। আমার নির্দেশনায়  শিকড়ের পরিবেশনা ‘আলোর মিছিল’ প্রদর্শিত হয় ৫ই অক্টোবর রোজ শুক্রবার ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলায়। রাসু আপা চেয়েছে তার ছেলে মেয়েদেরা ভিন্ন কিছু উপস্থাপন করবে আর আমি সেদিকে লক্ষ্য রেখেই নির্দেশনা দিয়েছি। যদিও এইটা আসলে মূল প্রদর্শনী নয় ,মূল প্রদর্শনী প্রদর্শিত হবে আগামী নভেম্বর ডিসেম্বর মাসে যশোর শিল্পকলা একাডেমিতে |আলোর মিছিলের ১ম প্রদর্শনীকে আমি বলবো টেকনিক্যাল ‘শো ‘, থিয়েটার ভাষায়  মূল শো এর আগে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে যেটা মঞ্চায়িত করা হয়।  টেকনিক্যাল  ‘শো ‘  বলার মূল কারণ হলো, সময়ের স্বল্পতা ।কিন্তু একটা কথা না বললেই নয়, যদিও সময় অনেক কম ছিল, রাসু আপা সহ তার প্রতিটি বাচ্চা অনেক নির্ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে ‘আলোর মিছিল’ । তাই , মূল শো টা আমরা নির্বাচনের পরেই মঞ্চায়ন করবো ভাবছি |

 

এই স্বল্প সময়ের কর্মসূচি আপনার কেমন লাগলো ? অভিজ্ঞতা কেমন হলো ?

– আমি দেশের ৮টি বিভাগের বেশ অনেকগুলি জেলাতে কাজ করেছি, আসলে দেশ-দেশান্তরে কাজ করাটা আমার শিল্প নেশায় পরিনত হয়েছে | সেই প্রয়াসেই আমার যশোর গমন । ভোর চারটা দিকে যশোর স্টেশনে নামার পরে দেখি রাসু আপার টিম সেখানে উপস্থিত | (প্রসংশায় রাজু …..) স্টেশন থেকে যেতে যেতে শুনলাম ‘শেকড় ‘ এর গল্প | আরো শুনলাম যে এরা শুধু নাটক, গান, নৃত্য করে না, এরা  বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন কাজ ও করে থাকে | বিভিন্ন দিবসে নানান আয়োজন ও সামাজিক কাজ করে থাকে ,আরো শুনতে লাগলাম গল্প ,,,,,,,,শুনতে শুনতে রাসু আপার বাসায় চলে আসলাম | এরপর প্রথম যে আমার অনুভূতি টা জাগলো, সেটি হলো কোনো হিসেব ছাড়াই রাসু আপার শিল্পের প্রতি টান ও শ্রদ্ধা নিবেদন। যশোর জেলায় এইরকম উম্মাদ, শিল্প প্রেমী ছেলে-মেয়ে, আমি কম দেখছি। একেতো সময়ের প্রতিকূলতা, তার উপর আমার বকা রাগ সহ্য করে, শেষ পর্যন্ত ‘ আলোর মিছিল ‘ অত্যন্ত নির্ভুলভাবে উপস্থাপনায়, তারা ছিল নিবেদিত প্রাণ। সবাই অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে।  সমস্ত  কৃতজ্ঞতা রাসু আপার কাছেই | ঐরকম একটা শহরে শিল্প উন্মাদ ছেলেমেয়ে নিয়ে কাজ করছি, সেটা অকল্পনীয়। আর একটি বিষয় আমি বলতে চাই, শেকড় ও রাসু অপার যত্ন। যা জেলাভিত্তিক শিল্পচর্চার সবাই সব জায়গায়ই করে। কিন্তু নিঃস্বন্দেহে ওদের সেবা, যত্ন, সম্মানবোধ এমন ছিল, যেন আমি আমার পরিবারের সদস্যদের সাথেই আছি | দারুন একটা সময় কাটিয়েছি |

এই শিল্প যাত্ৰার সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়টি ছিল , আমার ফিরে আসার গল্পে। ঠিক রাত ৯টা ৩০ মিনিটে আমার ফেরার টিকেট,  শো শেষ হলো  রাত ৯টা ১৫ মিনিটে । ২০ মিনিটের মতো সময় ছিল , শো শেষ করার পর মঞ্চের পেছনে গেলাম, জয়ী বাচ্চাগুলোর সাথে কথা বলতে, আমি যে চলে যাবো ওটা ওরা আগে থেকেই জানতো । মুহূর্তটা ছিল অনেক আনন্দের কিন্তু পরিবেশটা অনেকটাই  থম থমে ছিল। দেখলাম কেউ কাদছে, কেউ চুপ,  আর কারো মুখে  মৃদু হাসি কিন্তু চোখে পানি…. (অশ্রু সিক্ত চোখে আমিনুল আশরাফ ) মানে আমার ব্যাগ ,জিনিস পত্র ,গাড়ি ঠিক করা, আমাকে নিয়ে স্টেশনে যাওয়া, আমার খাবার রেডি করা মানে নানা বিষয় | আমি শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে ছিলাম যে ওরা কি করছে !  আমি শো শেষ করে একটা বার কথা বলতে পারিনি ঠিক করে , মানে এই আবেগ বা কষ্টটা ভাষায় বুঝাতে পারবো না | এই সময়ের ভিতরে এডিসি এসেও অনেক প্রশংসা করে গেলেন অশ্রুসিক্ত চোখে ,আসলে সত্যি বাচ্চাগুলা অসাধারণ এবং কিছু বলার নেই আর |  যখন ট্রেনে উঠে, সিটে বসলাম ,দেখলাম জানালার পাশে সবাই দাড়ানো আর কান্না করছে আমি আবার জানলার কাঁচের এপাশ থেকে হাত দিয়ে ইশারায় আমার আবেগগুলো প্রকাশ করছিলাম এবং রাসু আপাও দাড়ানো ছিলো।অবশেষে আমার ট্রেনে ছাড়লো এবং ওরাও সাথে সাথে দৌড়াচ্ছিলো, ইঞ্জিন ও মানুষের পাশাপাশি  দৌড়ে বরাবরের মতো তারা হেরে গেলেও আবেগ প্রকাশে ‘শেকড়’ -ই জয়ী ………এই হচ্ছে ‘শেকড় ‘ গল্প |||||||||||||

Check Also

মনোনয়ন পত্র কিনেছেন নায়ক ফারুক

গাজীপুর-৫ আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে এমপি নির্বাচন করতে চান ঢাকাই সিনেমার একসময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক …