‘জিও পাগলা’র ভয়াবহ ভরাডুবি।

অরণ্য শোয়েব| ব্যর্থতা দিয়েই শুরু হয়েছে চলচ্চিত্রের নতুন বছর। ৫ জানুয়ারি বছরের প্রথম সিনেমা ‘পুত্র’ ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হওয়ার পর গত সপ্তাহে মুক্তি পাওয়া ‘পাগল মানুষ’ এবং ‘হৈমন্তী’ সিনেমা দুটি ফ্লপ হলে হতাশা নেমে আসে চলচ্চিত্র পরিবারে। এদিকে চলতি সপ্তাহে মুক্তি পাওয়া ভারতীয় বাংলা ‘জিও পাগলা’ সিনেমাটিও প্রত্যাশানুযায়ী ব্যবসা করতে না পারায় বছরের শুরুতেই যেন বিপর্যয় নেমে আসার আভাস দেখা দিচ্ছে বাংলা চলচ্চিত্রে। সরেজমিনে ঘুরে এবং সিনেমাহল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো, শুক্রবার থেকেই আহামরি দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়েছে সাফটা চুক্তির আওতায় শুক্রবার মুক্তি পাওয়া ‘জিও পাগলা’ সিনেমাটি। ধারণা করা হচ্ছিল, তীব্র শীত এবং বিশ্ব ইজতেমার কারণে দর্শক সমাগম কম হলেও পরবর্তীতে দর্শক উপস্থিতি বাড়বে। কিন্তু শীত এবং বিশ্ব ইজতেমা শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সিনেমাহলেই প্রত্যাশা অনুযায়ী দর্শক উপস্থিতি চোখে পড়েনি। খোদ রাজধানীতেও দেখা যাচ্ছে ‘জিও পাগলা’র ভয়াবহ ভরাডুবি।
রোববার রাজধানীর বলাকা সিনেমাহলের ম্যানেজার মোহাম্মদ আকতার বলেন, ‘জিও পাগলা’ মোটেও ভালো চলছে না। শুক্রবার থেকে আজ (সোমবার) পর্যন্ত একটি শো-ও হাউজফুল হয়নি। সঙ্গত কারণে কত টাকার বিক্রিবাট্টা হয়েছে এটি বলতে চাই না। তবে বলাকার দর্শকদের কাছে ‘জিও পাগলা’ ফ্লপ ছবি।
তিনি বলেন, ‘জিও পাগলা’ পুরোপুরি কলকাতা কালচারের ছবি। কমেডি গল্পের ছবি। কিন্তু প্রচারণার অভাবে আমাদের দর্শকদের কাছে ঠিকভাবে ছবিটি পৌঁছায়নি।
মতিঝিলের মধুমিতা সিনেমা হলেও দেখা গেছে একইচিত্র। হলটির মালিক ও সিনেমা হলমালিক সমিতির সভাপতি ইফতেখার আহমেদ নওশাদ বলেন, আমার হলে ভালো ব্যবসা করলে ছবির সেল সব শো মিলিয়ে আসে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। সেখানে শুক্রবারে ‘জিও পাগলা’ সবমিলিয়ে শো দিয়ে ৩৫ হাজার টাকা সেল হয়েছে। এবার বুঝুন কত খারাপ অবস্থা। শনিবারেও প্রায় একই অবস্থা। আজ (রোববার) আরো খারাপ।
এদিকে বসুন্ধরা স্টার সিনেপ্লেক্সের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন বললেন, আহামরিভাবে চলছে না ছবিটি। হাউজফুলের দেখা পাইনি। প্রতিদিন সময় ১১ টা ও ৪ টা দুটি করে শো প্রদর্শিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, গত দুদিনে আসন সংখ্যার ৪০ শতাংশ দর্শক জিও পাগলা দেখছে। আজ (রোববার) দর্শক কম। এটা আশানুরূপ উপস্থিতি নয়।
জোনাকি সিনেমা হলের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন বলেন, শুক্রবার পাঁচটি শো থেকে ২১ হাজার টাকা, শনিবার চার শো থেকে ৮ হাজার টাকা। আজ (রোববার) একেবারে মুখ থুবড়ে পড়েছে। ব্যবসা খুবই খারাপ। আগামি মাসে কয়েকটা ভালো ছবি আসছে। ওখান থেকে যদি কিছু লাভ করা যায় সেই অপেক্ষায় আছি।
নারায়ণগঞ্জের নিউমেট্রো সিনেমা হলের ম্যানেজার সাইদ হোসেন বলেন, ‘জিও পাগলা’ আগেই ইন্টারনেটে দর্শকরা দেখেছে। ইন্টারনেটে দেখা ছবি আবার সিনেমা হলে এসে দেখবে এমন দর্শক আমাদের দেশে এখনো তৈরি হয়নি। গত শুক্রবার আমাদের দেশের কোনো সিনেমা মুক্তি পায়নি। হল বাঁচিয়ে রাখতে হলে কলকাতার এই ছবি চালানো ছাড়া কোন উপায় ছিল না, সেজন্যই চালাচ্ছি।
প্রথমদিন ৪০-৫০ জন দর্শক, পরে ১০-১৫ জন দর্শকের উপস্থিতিতে ছবি চালানো হচ্ছে। কত টাকার ব্যবসা করেছে, শুনে আর লজ্জা দেবেন না-বললেন সাইদ।
পুরান ঢাকার জিঞ্জিরা সিনেমা হল থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, শুক্রবারে মুক্তির প্রথম দিনে ৪০ হাজার টাকা সেল হয়েছে। শনিবার তিন শো থেকে সেল হয়েছে ২৩ হাজার টাকা। আজ (সোমবার) দর্শক নেই বললেই চলে! সপ্তাহের বাকি দিনগুলো ছবি চলবে কিনা সন্দেহ!
উল্লেখ্য, ‘জিও পাগলা’ নির্মাণ করেছেন কলকাতার সুপারহিট নির্মাতা রবি কিনাগী। সিনেমাটির প্রধান কয়েকটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন যিশু সেনগুপ্ত, শ্রাবন্তী, সোহম চক্রবর্তী, ঋত্বিকা সেন, হিরণ চ্যাটার্জি, বনি সেনগুপ্ত, কৌশানি মুখার্জি, পায়েল সরকার প্রমুখ। গেল বছরের ২০ অক্টোবর রোমান্টিক-কমেডি ধাঁচের এই ছবিটি পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেয়েছিল। শুক্রবার দেশের ৪৩ টি সিনেমা হলে সিনেমাটি একযোগে মুক্তি পেয়েছে বলে জানালেন সিনেমাটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খান ব্রাদার্স। সূত্র : চ্যানেল আই

Check Also

নীরব জলির নতুন অধ্যায় !

অরণ্য শোয়েব | ঢাকাই সিনেমার সুদর্শন নায়ক নীরব |বেশ কিছুদিন আগে চুক্তিবদ্ধ হন পরিচালক বন্ধন …