সর্বনাশা ইয়াবা ‘র’ মূল হোতা জিয়া তালুকদার এখন কোথায় আছে ?

অরণ্য শোয়েব | বাংলাদেশের অসংখ্যে যুবসমাজ যে মৃর্তু নেশায় জড়িয়ে আছে তার নাম ইয়াবা |দেশে যখন ইয়াবা যুবসমাজ কে গ্রাস করে নিচ্ছিলো এবং এই ইয়াবা নেশা কে কেন্দ্র করে তখনকার সময় ২০১৪ তে নির্মাণ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত পরিচালক কাজী হায়াৎ নির্মাণ করেন ‘ সর্বনাশা ইয়াবা ‘ নাম একটি সিনেমা | ম্যাসেজমুলক এই সিনেমায় দেখানো হয় তখন, কি করে একটি ভালো ঘরের শান্ত সৃষ্ট ছেলে মেয়েরা নেশার দিকে ঝুকে পরে , বিভিন্ন বেআইনি অপরাধ মূলক কার্যক্রম করে | পুলিশ এবং দেশের আইন কতটা শক্তিপূর্ণ ভূমিকা রাখে অপরাধীদের বিরুদ্ধে এইরকমই কিছু বার্তার আভাস ছিল এই সিনেমায় | এবং অভিনেতা জিয়া তালুকদার কে দেখা গিয়েছিলো এই সিনেমার ‘সর্বনাশা ইয়াবা’র মূল হোতা (ভিলেন) যে কিনা ইয়াবার কারবারি করতো |


ভিলেন এর কথা বলতে গেলে বলা যায় ,,গল্পকে শ্বাসরুদ্ধকরভাবে এগিয়ে নেয়াসহ সিনেমায় গতি এনে দেয় একজন খল-অভিনেতা। দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য সিনেমা তৈরিতে খলনায়কের ভূমিকা অনেক। তাই নায়কের চেয়ে খলনায়কের গুরুত্ব মোটেও কম নয়।

খলনায়কের কাজ হচ্ছে গল্পে ব্যঞ্জনা তৈরি করা। অভিনয়ের প্রয়োজনে এদের চলচ্চিত্রের পর্দায় বিচিত্র রূপ ধারণের পাশাপাশি কঠিন কঠিন কাজ করতে হয়। গোলাম মুস্তাফা, হুমায়ূন ফরিদি, রাজিব, এটিএম শামসুজ্জামান, আহমেদ শরীফ প্রমুখ খল অভিনেতারা পর্দা কাঁপিয়েছেন। পর্দায় তাদের উপস্থিতিই যেন দর্শককে কখনো চিন্তিত করে তুলতো আবার কখনো আশা ভঙ্গের কারণ হয়ে দাঁড়াতো। ঢাকাই চলচ্চিত্রে এখন তা সোনালী অতীত।

বর্তমানে চলচ্চিত্রে খলনায়কের সংকট চলছে। সোনালী যুগের পর্দা কাঁপানো খলনায়কদের অনেকেই এখন চলচ্চিত্র থেকে দূরে রয়েছেন। এদিকে, নতুন করে যোগ্য খলনায়কের আবির্ভাব ঘটছে না। তরুণ প্রজন্মের গুটিকয়েক খল-অভিনেতা দু-একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে যাচ্ছেন। কিন্তু তরুণ প্রজন্মের মধ্যে খল অভিনেতা হিসেবে জিয়া তালুকদার অনেক কাজ করে আসছে |


যাক এইগুলো পুরোনো খবর ..নতুন খবর হচ্ছে প্রায় দেড়বছর এর মতো ধরে পর্দায় দেখা যাচ্ছে না এই ‘সর্বনাশা ইয়াবা’ খ্যাত ভিলেন জিয়া তালুকদার কে | ২০১৩ সালে যাত্রা করেন এই অভিনেতা ইন্ড্রাস্টিতে এবং ৪০টির উপর সিনেমায় কাজ করেছেন | অসংখ দর্শকনন্দিত সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি .এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেশা দা লিডার , লাভ ম্যারেজ,ধুমকেতু ,বসগিরি ,শূটার ,(রানা প্লাজা <রিলিজ পায়নি >) সহ অনেক সিনেমা |
কোনো এই অভিনেতা কে পর্দায় দেখা যাচ্ছে না এই নিয়ে কথা হয় অভিনেতা জিয়া তালুকদার এর সাথে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অরণ্য শোয়েব ,,,,,,,,,

কেমন আছেন ? অনেক দিন ধরে পর্দায় নেই কোনো ? কোনো শুটিং দেখা যাচ্ছে না কেন ?

জিয়া তালুকদার : আল্লাহর রহমতে বেশ ভালো আছি, আপনাদের সবার দোয়ায়ে | আমি এখন লন্ডনে আছি আমার পরিবারের সাথে | অনেক বছর পর আসলাম ,ছেলে মেয়ে স্ত্রী কে দেখতে | সিনেমা করতে করতে অনেক সময় পার হয়ে যায়, তাই যতটুকু সময় থাকে হাতে ঠিক অতটুকু সময় পার করি গ্রামে গিয়ে, মাকে দেখে আসি ও একটু গ্রামের সতেজ হওয়া এ নিঃশ্বাস নেই শিশির ভেজা ঘাসের উপর দিয়ে হেটে | লন্ডনেও আসি মাঝে মাঝে কিত্নু বেশি সময় দিতে পারি না ,তাই অনেকদিন বাদে একটু সময় নিয়ে আসলাম পরিবারের কাছে | তাই হয়তো দেখছেন না কোনো পরিচালক এর শুটিং |

ফিরবেন কবে ? আবার কি জিয়া ভক্তকুল দেখতে পাবে প্রিয় অভিনেতা কে পর্দায় ? সহ অভিনেতাদের কি কোনো খবর রাখছেন কিনা চলচ্চিত্র পাড়ায় ?

জিয়া তালুকদার : ইনশাল্লাহ অবশ্যই ফিরবো ,সামনের বছর আসবো | লন্ডনে কিছু কাজ আছে এইগুলো শেষ করে আসবো | হ্যা পর্দায় তো অবশ্যই ফিরবো| কেননা সিনেমার প্রতি ভালোবাসা আছে বলেই এতোদূরে থেকেও সবার খবর নেয় | কে কি করছে এফডিসিতে কি হচ্ছে সব খবর ই পাই এবং নিতে হয় ,কারণ এটাই তো নেশা | তবে খুব মিস করি সহ অভিনেতা, পরিচালক, অভিনেত্রীদের , তাদের সাথে কাটানো সময়গুলো কেও | অনেক কেই মাঝে মাঝে ফোন দেই |

চলচ্চিত্রপাড়া কিছুটা হুমকির মুখে এবং যৌথ প্রযোজনা নিয়ে বেশ তর্ক- ত্বকী রাজনীতি এবং শিল্পী সংকট এ নিয়ে কিছু বলুন ?

জিয়া তালুকদার : তিতা হলেও এইটা সত্যি যে আমাদের ফিল্মের অবস্থা একটু খারাপ | তবে আমি আশা করছি দুই এক বছর এর মধ্যে সব সমস্যার সমাধান হবে | এবং সরকার উদ্বেগ নিচ্ছে হল গুলো সংস্কারকরণ এর ও এফডিসিতে সার্ভার এ-টিকিটিং ব্যবস্থা সহ অনেক কিছু | আমি সরকার কে ধন্যবাদ দিবো এই মহৎ উদ্ধেগ নেয়াকে |
দেখুন যৌথ প্রযোজনা নিয়ে আমি তেমন কিছু বলতে চাই না | আমার কথা হচ্ছে নিয়ম নীতি মেনে সব কিছু করলে ক্ষতি কিসের | তাছাড়া অনেক শিল্পী তো এখন কাজ করছে .তাদের বসে থাকতে হচ্ছে না | কিন্তু কথা একটি আমাদের শিল্পীরা যেন কাজ পায় |
শিল্পী সংকট তো কবে থেকেই দেখছি ,,কিন্তু কাজ হবে কি সবাইকে তো এক না |একটা সিস্টেম এর মধ্যে সব শিল্পীরা | উচিত নতুন মুখ নেয়া নতুন নির্মাতা সহ গল্প লেখকও |

আপনারা ভিলেন শুটিং করার সময়ের কিছু কথা বলুন ?

জিয়া তালুকদার : অনেক মজা করি কাজও করি | তবে একটু খারাপ লাগে এইগুলো দেখে যে ,বেশিরভাগ নির্মাতা ও প্রযোজকরা নায়িকা ,নায়ক নিয়ে মাতামাতি বেশি করে এবং তাদের দিকে খেয়ালটা একটু বেশি | কেননা আমাদের যখন কল টাইম থাকে আমরা তখনি চলে আসি কিন্তু আসার পরে বসে থাকতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা ,,,কারণ নায়ক আসেনি শুটিং পরে হবে না হলে নায়িকা আসেনি কাজ পরে হবে | কিন্তু একটা কথা মনে রাখা উচিত ,গল্পকে শ্বাসরুদ্ধকরভাবে এগিয়ে নেয়াসহ সিনেমায় গতি এনে দেয় একজন খল-অভিনেতা। তারপর ও শুটিং শেষে পেমেন্ট নিয়ে অনেক ঝামেলা ঠিক মতো সাইনিং মানি জোটে না | তারপর কাজ করি কারণ সিনেমাকে ভালোবাসি |

শেষ দুই প্রশ্ন আপনার কাছে —
সিনেমা কমে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে কিছু বলুন ? দর্শক হলে কম কেন ? দর্শক কি চায়

জিয়া তালুকদার : অনেকগুলো কারণের মধ্যে হল সমস্যা একটা | ভালো গল্প নেই ,মানহীন সিনেমা নির্মাণ | নতুনদের অভিনয়ের সুযোগ দিলেও কাজে লাগাতে পারছে না পরিচালক |
এবং ইন্টারনেটে যদি সিনেমা পাওয়া যায় তবে হলে কেন যাবে দর্শক | দর্শক চায় ভালো গল্প একশন রোমান্স এইসব |
তাছাড়া অন্যতম কারণ বেশিরভাগ নায়িকা এখন প্রযোজকদের ধরে নিয়ে আসছে | শুধু মহরতে সীমাবদ্ধ শুটিং আর হয় না | কিছুদিন করে হারিয়ে যায় সবাই |

শিল্পী সমিতির নির্বাচনের সময় একটু ঝামেলা মামলা হয়েছিল এই নিয়ে কিছু বলুন ? এবং সামনের পরিকল্পনা কি আপনার ?

জিয়া তালুকদার : দেখুন একটা নির্বাচনের সময় অনেক ঘটনা সৃষ্টি হতে পারে | অনেক গুজব রটনা হয় ,এ নিয়ে পরে থাকলে সামনের দিকে আগানো মুশকিল | এতটুকু বলবো আমি পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলাম আর কিছু না | সময়ের বিপরীত ছিল আমার হিতে | আমি বুঝতে পারছি আপনি শাকিব খান (ভাই ) এর কথা ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে জানতে চাইছেন (হাহাহাহাহা) শাকিব খান কে আমি আমার বড় ভাই এর মতো দেখি | তার সাথে এমন কিছুই করবো না যে ভালোবাসাটা নষ্ট হয়ে যাবে | একটু ভুল বোঝা বুঝি হয়েছে আমাদের সাথে তার আর কিছু না | এখন সব ঠিক আছে |

সামনে পরিকল্পনা একটাই অভিনয় করছি অভিনয় করবো পাশাপাশি নির্মাণ করার ইচ্ছাও আছে সিনেমা | দেখি কি হয় অনেক সময় তো আছে |

Check Also

এবার বিচারকের আসনে তাঁরা পাঁচজন

ওয়াসিম এমদাদ : বাংলাদেশী চলচ্চিত্রে শিল্পী সংগ্রহ কার্যক্রম “নতুন মুখের সন্ধানে-২০১৮” প্রতিযোগিতা শুরু হতে যাচ্ছে। …