সঙ্গীতে নতুন তারকা বেলী আফরোজ

দেশীয় সঙ্গীতের নতুন সেনসেশন, তারকা গায়িকা বেলী আফরোজ। পাওয়ার ভয়েজ খ্যাত এই গায়িকা এখন অডিও, ভিডিও, স্টেজ শো,প্লেব্যাক, টিভি চ্যানেলের শো সহ সঙ্গীতের সকল ক্ষেত্রেই নিজের গায়কী দিয়ে জয় করে নিয়েছেন শ্রোতা,দর্শক আর ভক্তদের হৃদয়। তাই তো চট্টগ্রামের মেয়ে বেলী এখন দেশীয় সঙ্গীতের ইয়াং ক্রেজ তারকা গায়িকা। সম্প্রতি তার সাথে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। আলাপচারিতার শুরুতেই নিজের সংগীতে হাতেখড়ির বিষয় নিয়ে বেলী বলেন, তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ার সময় আমি সংগীত চর্চা শুরু করি চট্টগ্রামের ধ্রুব পরিষদে। এর পর ওস্তাদ মিহির লালার কাছে ক্ল্যাসিক্যাল সংগীত শেখা। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে যোগ দেই চট্টগ্রামের ফিমেল ব্যান্ড দল “ব্লু বার্ডস” এ। মূলত ওই ব্যান্ডে ড্রামার হিসেবে জয়েন করলেও ড্রামস বাজানোর পাশাপশি ভয়েসও দিতাম। তার মানে ব্লু বার্ডস এর মাধ্যমেই আপনার পেশাদারী সংগীত শিল্পী হয়ে উঠার সূচনা? এই প্রশ্নের উত্তরে গ্ল্যামারাস আর সদাহাস্য তরুণী গায়িকা বেলী বলেন, হম। ব্লু বার্ডস দিয়েই আমার পেশাদারী সংগীত শিল্পী হয়ে উঠা। ওই ব্যান্ডের হয়ে টানা দুই বছর চট্টগ্রাম এলাকার বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর স্টেজ শো করেছি। এর পর আমি সলো শো করা শুরু করি। মূলত ব্লু বার্ডস এর হয়ে দুই বছর টানা শো করার কারণে চট্টগ্রাম এলাকার স্টেজ শোতে আমি বিশাল পরিচিত পাই। তাই স্টেজে সলো শিল্পী হিসেবে আমার তখন দারুন চাহিদা আর জনপ্রিয়তা তৈরি হয়। এমনও হয়েছে আমি তখন প্রতিদিন ৩/৪ টা শোও করেছি। ভোর রাত পর্যন্ত আমি ক্লান্তিহীন শো করেছি।
বেলী আফরোজ জানান, ২০১২ সালে চ্যানেল নাইন এর সংগীত বিষয়ক রিয়েলিটি শো পাওয়ার ভয়েজ এ অংশগ্রহণ করার আগ পর্যন্ত তার সংগীতের পথচলা চট্টগ্রাম অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ ছিল। পাওয়ার ভয়েজে অংশ নেওয়ার কারণ সম্পর্কে বেলীর সহজ সরল উত্তর হলো – চট্টগ্রামে বিরামহীন স্টেজ শো করতে করতে আমি রীতিমতো ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলাম। আমার গলার রেস্ট পর্যন্ত দিতে পারতাম না। তখন মনে মনে ভাবতাম – যদি বড় কোন প্লাটফর্ম থেকে নিজেকে জাতীয় পর্যায়ে ফোকাস করতে পারতাম,তাহলে হয়তো আমার জন্যে ভালো হতো। কেননা জাতীয় পর্যায়ের বড় শিল্পী হতে গেলে কন্ঠের বিশ্রাম অতি জরুরী। তো ওই সময়েই পাওয়ার ভয়েজের ঘোষণা আসে। আমিও অংশ নেই তাতে। আর চূড়ান্ত পর্যায়ে আমি চতুর্থ হই। সুন্দরী সুগায়িকা বেলীর কাছে পাল্টা প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয় – আপনি কী মনে করেন পাওয়ার ভয়েজের মাধ্যমে আপনার কাঙ্খিত সেই প্লাটফর্ম পেয়েছিলেন? অবশ্যই। আমি তো তাই মনে করি। পাওয়ার ভয়েজে অংশ নেওয়া বা চতুর্থ হওয়াটাকে আমি আমার জন্যে সৌভাগ্যের মনে করি সব সময়। আমি বলবো – জাতীয় পর্যায়ের পেশাদারী সংগীত শিল্পী হওয়ার ক্ষেত্রে এটি আমার জন্যে অনেক বড় আর শক্ত প্লাটফর্ম ছিল। অবাক করা বিষয় হলো ওখানে থাকতেই আমি প্রথম সিনেমার গানে প্লেব্যাক করি। তাও আবার দেশীয় চলচ্চিত্রের স্বনামধন্য নির্মাতা জাকির হোসেন রাজুর ছবিতে। আমি তো বলবো – এটি আমার জন্যে তখন বিশাল প্রাপ্তি ছিল। তিনি জানান, জাকির হোসেন রাজুর রাঙা মন ছবি দিয়ে শুরু করে এখন পর্যন্ত সর্বনাশা ইয়াবা,ভালোবাসা সীমাহীন,প্রেমের হাট,বুলেট বাবু,নগর মাস্তান,অন্তর্জ্বালা,কেন এমন হয়,মিশন সিআইডি,মন শিকারী,উতলা মন সহ অনেক ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন। স্টেজ শো,রিয়েলিটি শোর গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে সিনেমার গানে প্লেব্যাক করে ভালো একটা পরিচিতি পাওয়ার পর বেলী আফরোজ অডিও মাধ্যমে গান করার ক্ষেত্রে মনোযোগী হন বলে জানান। ২০১৫ সালে “বেলী” শিরোনামে তার প্রথম একক অডিও এলবাম প্রকাশিত হয়। ৮টি গান দিয়ে সাজানো ওই এলবামের তেতুঁল পাতা এবং ভাবের ঘর গান দুটি ব্যাপক সাফল্যে বেলী আফরোজের সংগীত ক্যারিয়ারে বড় ধরনের পরিচিতি আর জনপ্রিয়তা এনে দেয়।
এই এলবামের সাফল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে তার গানের শ্রোতা দর্শক আর ভক্তদের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল জানতে চাইলে বেলী বলেন,বিভিন্ন স্টেজ শোতে আমাকে প্রায়ই তেতুঁল পাতা এবং ভাবের ঘর গানটি গাইতে হয়। গান দুটির প্রচুর রিকুয়েস্ট আসে স্টেজ শোতে। জি সিরিজের ব্যানারে প্রকাশিত বেলী এলবামের সাফল্যের পর ২০১৬ সালে দেশীয় সঙ্গীতের সুপার স্টার আসিফের সাথে বেলী একটি ডুয়েট গান করেন মেঘলা মন শিরোনামে। এই গানের সাফল্য তার জনপ্রিয়তাকে আরো এক ধাপ বাড়িয়ে দেয়। গানটির ব্যাপক সাফল্যে আসিফ নিজেই উদ্যোগী হয়ে বেলীর সঙ্গে আরো একটি ডুয়েট গান করেন। এটির শিরোনাম ছিল সাদাকালো। পরবর্তীতে কত আর পোড়াবে,আকাশের তারা,কচি ডাবের পানি সহ বেশ কিছু সিংগেল ট্র্যাক নিয়ে শ্রোতা দর্শকদের মাঝে দারুন সারা ফেলেন সুগায়িকা বেলী আফরোজ। তেমনি তার জনপ্রিয়তা আর তারকা খ্যাতি ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে। গেলো বছরের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয় বেলীর গাওয়া সুপার হিট গান “হায়রে হায়রে”। কবির বকুলের কথায় ২০১৭ সালের দেশীয় সংগীতে বিপুল জনপ্রিয় এই গানটির সংগীত পরিচালনা করেন শওকত আলী ইমন। সংগীত বোদ্ধারা মনে করেন এই গানটির বিশাল সাফল্যের নেপথ্যে ছিল বেলীর সুগায়কী আর মিউজিক ভিডিওতে তার অসামান্য নৃত্য পারঙ্গমতা ভরা পারফরমেন্স। গানটিতে নিজের মডেলিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন,শুরুতে ভেবেছিলাম পেশাদার কোন নৃত্য পারদর্শী মডেল দিয়ে মিউজিক ভিডিওটি করবো। কিন্তু ভয়েস দেওয়ার পর ইমন ভাই বলেন, এই ভিডিওতে তুই নিজেই মডেলিং কর। তার কথাতেই মূলত সিনেমার আইটেম সং ধাঁচের এই গানে নিজেই নাচ করলাম। এর জন্যে আমাকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছে। তবে মিউজিক ভিডিওটির অসামান্য সাফল্য আমার সব পরিশ্রম ভুলিয়ে দিয়েছে। আমি মনে করি এই গানটির সাফল্য আমাকে গায়িকা হিসেবে তারকা খ্যাতি এনে দিয়েছে। হায়রে হায়রে গানে বেলী আফরোজ এতটাই সাবলীল আর দুর্দান্ত নাচ দেখিয়েছেন যে, তার নাচে মুগ্ধ হয়ে সবাই ধরেই নিয়েছেন তিনি গানের মত নাচও শিখেছেন। আসলে তার কিন্তু নাচের কোন ব্যাক গ্রাউন্ড নেই। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত তার সব গানের ভিডিওতে তিনি নিজেই মডেলিং করেছেন। এদিক থেকে দেশীয় সংগীত শিল্পীদের মধ্যে এটি তার জন্যে বড় একটি রেকর্ড। নিজের আগামীর পরিকল্পনা সম্পর্কে সুরেলা কণ্ঠের সুগায়িকা আর মিষ্টি হাসির লাস্যময়ী তরুণী বেলী আফরোজ বলেন, খুব শীঘ্রি নতুন গান আসছে। ইতিমধ্যে শওকত আলী ইমন মিউজিক ট্র্যাক তৈরি করেছেন। কয়েকদিনের মধ্যেই ভয়েস দেবো। আশা করছি সেটিও বিশাল ধামাকা হয়েই আসবে। বেলী আফরোজ বলেন, আমি পাওয়ার ভয়েজ দিয়ে দেশীয় সঙ্গীতের জাতীয় পর্যায়ে উঠে এসেছি। নিজের মেধা প্রতিভা আর গায়কী দিয়ে ধীরে ধীরে নিজের বেলী আফরোজ নামটিই ব্র্যান্ডিং করে চলেছি। আমি এখন একজন গায়িকা হিসেবে জনপ্রিয়তার আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নে বিভোর। আর সেই লক্ষ্যেই পরিকল্পনা মাফিক সংগীত ক্যারিয়ার এগিয়ে নিয়ে চলছি।আমার বিশ্বাস আমার গান আর পারফরমেন্স আমাকে এক নামে ঠিকই পরিচিত করে তুলবে।কথায় কথায় তিনি জানান, সময়ের ধারাবাহিকতায় স্টেজ শো করতে তিনি এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার,সিঙ্গাপুর,অস্ট্রেলিয়া সহ বেশ কিছু দেশে গেছেন। নতুন বছরে তার ইউরোপ ও আমেরিকায় শো করতে যাওয়ার কথা রয়েছে।

Check Also

রেদওয়ান রনি”টাইম ট্রাভেল এক্সপেরিএন্স”

মিডিয়া ভূবন২৪- দর্শক একই সময়ে পর্দায় ৭১ এর বিজয়  ও ১৮ সালের সাফল্যের গল্প দেখবে একই …