জোভান-মেহজাবিন এর ‘রংতুলি’ নিয়ে স্বাধীন ফুয়াদ

মিডিয়া ভূবন২৪.কম-স্বাধীন ফুয়াদের পরিচালনায়, আহমেদ অর্কের গল্পে নির্মাণ হল নাটক রংতুলি। মিমি প্রোডাকশন প্রযোজিত নাটকটির স্যুটিং সম্পন্ন হয়েছে গত ২৭ ও ২৮ অক্টোবর উত্তরার স্বপ্নীল হাউজ এবং লালমাটিয়া মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসে। নাটকটির মূল দুটি চরিত্রে ছিলেন ফারহান আহমেদ জোভান এবং মেহজাবিন। অন্যান্য চরিত্রে ছিলেন রাশেদ মামুন, সজল মহন্ত, রাসেল আহমেদ, সজল আহমেদ, জাকির আরও অনেকে। নির্বাহী প্রযোজক জাকির খান।
পরিচালক স্বাধীন ফুয়াদ নাটক সম্পর্কে বললেন, নাটকটি খুব যতœ নিয়ে এবং বেশ আয়োজনের মাধ্যমে করার চেষ্টা করা হয়েছে। ভিন্ন গল্পের রোমান্টিক সেড ধারানার নাটকটি দর্শকদের মনে জায়গা করতে পারবে বলে স্বাধীন ফুয়াদের দৃঢ় বিশ্বাস। জোভান এবং মেহজাবিন যথেষ্ট মনোযোগ দিয়ে চরিত্রের সাথে মিশে কাজটি করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। সহযোগীতা ছিল পুরো টিম মেম্বারদের। তাদের কাছে পরিচালক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন যারা অক্লান্ত পরিশ্রম দিয়েছেন নাটকটির বিভিন্ন ক্ষেত্রে। নাটকটির কাহিনী সংক্ষেপ স্বাধীন ফুয়াদ যা বললেন তা হলো
আর্ট ইনস্টিটিউটে ক্লাস শেষ, সবাই নিজের মত গুছিয়ে নিচ্ছে, কেউ চলে যাচ্ছে, কেউ চিত্রের বাকি অংশের কাজ করে যাচ্ছে। নিজের ব্যস্ততায় পারিপার্শ্বিকতা ভুলে কাজ করছিল রঙ। একটু দূরে দাঁড়িয়ে কেউ যে তার আত্মমগ্নতায় ডুবে কাজ করা লক্ষ করছিল সেটা যেন বিবেচ্য বিষয় নয়। তুলির ডাকে ধ্যান ভেঙে সম্বিত ফিরে পায় রঙ। বিরক্তি মিশ্রিত বিব্রতায় জানতে চায় কেন মেয়েটি তাকে ডেকেছে? যথাযথ লজ্জায় নিজেকে গুটিয়ে মেয়েটি জানান দেয় সে ক্লাসে নতুন, নিজ চেষ্টায় যদিও সে কিছুটা এগিয়ে নিয়েছে তবুও রঙ যদি তাকে সহযোগিতা করে তবে সে রঙের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে। বিরক্তি নিয়ে রঙ মেয়েটির ক্যানভাসের সামনে এসে দাঁড়ায়, তার আঁকা ছবিটি পর্যবেক্ষন করে জানিয়ে দেয়, যে চোখে দেখে না সেও এর থেকে ভাল ছবি আঁকতে পারে। প্রতিউত্তররের অপেক্ষায় না দাঁড়িয়ে কিছুটা হেয় করে সেখান থেকে চলে যায় রঙ।এদিকে অবাক মেয়েটি নির্বিকারে দাঁড়িয়ে ছেলেটির চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে থাকে। চলতি পথে কিছু বখাটের আক্রমনের শিকার হয় রঙ, একপর্যায়ে মাথায় আঘাত পেলে জ্ঞানহীন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয় সে। মাথায় গুরুতর আঘাত লাগার ফলে তার ভিজ্যুয়াল করটেক্স ড্যামেজ হয়ে অন্ধ হয়ে যায় রং। কিছুদিন পর। বাস্তবতার সাথে চ্যালেঞ্জে নতুন জীবন অভ্যস্থ হতে তখন ব্যর্থ ছেলেটি।
অদ্ভুত কৌতুহলে তুলি রঙ এর ঠিকানা নিয়ে পৌঁছে যায় সেখানে। দরজায় করাঘাতে রঙ তুলির কাছে জানতে চায় সে কেন এসেছে। উত্তরে মেয়েটি বলে রঙের আঁকা ছবি গুলো তার ভীষণ ভাল লেগেছে, সার্বিক পরিস্থিতিতে সব মানিয়ে নিয়ে সে ছবি গুলোর সাথে বন্ধুত্ব করতে চায়। বিপরীতে রঙের নেতিবাচক প্রতিউত্তরে সেদিনের মত ফিরে যায় তুলি। তার দুই দিন পর। খাবার যেমন তেমন, ঘরে সামান্য পান যোগ্য পানিও নেই। অবহেলা অপরিচর্রযায় রঙের জীবন দুর্বিসহ হয়ে আসে। সেদিন তুলি কিছু খাবার নিয়ে দেখা করতে এলে তখন ও তার মনে হয় দাম্ভিক ছেলেটি হয়ত আজও তাকে ফিরিয়ে দিবে। কিন্ত ভেঙে পরা নিজেকে দাঁড় করাতে সে তুলির সাহায্য স্বীকার করে নেয়।
অবহেলায় ধুলো মাখা রঙের ছবিগুলোর সাথে বন্ধুত্ব হয়ে যায় তুলির। নির্ভয়ে পরম বন্ধু মমতায় মেয়েটি ছেলেটির সাহস হয়ে যায়। আর এভাবেই তুলির হাত ধরে রং খুঁজে পায় বেঁচে থাকার স্বপ্ন। তুলি রং এর মাঝে খুঁজে নেয় তার ভালবাসা।

নাটকটির চিত্রগ্রহণে ছিলেন মোমিন হোসেন। শিল্প নির্দেশনায় মাহফুজ ইসলাম। কো-অর্ডিনেটর বদরুন নাহার মিরা। প্রধান সহকারী পরিচালক রিফাত আহমেদ। সম্পাদনা হাসান ফুয়াদ। কারিগরি সহযোগীতা ফু-স্বা এ্যান্টারটেইনমেন্ট। রূপসজ্জায় শাহ আবুল। আলোক নির্দেশনায় আনোয়ার। প্রোডাকশন কন্ট্রোলার আহমেদ বিপ্লব।

Check Also

মনোনয়ন পত্র কিনেছেন নায়ক ফারুক

গাজীপুর-৫ আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে এমপি নির্বাচন করতে চান ঢাকাই সিনেমার একসময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক …